কিন্তু প্রশ্ন হলো — আপনি কি শুধু ব্যবসায়ী নাকি একজন উদ্যোক্তা?
দুইটা শব্দ প্রায় একই মনে হলেও, এর মানে কিন্তু অনেক আলাদা।
![]() |
ছবিঃ ফেসবুক |
ব্যবসায়ী মানে কী?
আপনি একটা প্রোডাক্ট কিনে বিক্রি করলেন, লাভ করলেন — এটাই ব্যবসা।
মানে, যা সবাই করছে, আপনিও সেটাই করছেন।
আর উদ্যোক্তা মানে কী?
উদ্যোক্তা সে, যে একই জিনিসকে একটু ভিন্নভাবে ভাবে,
মানুষের দরকার বুঝে কাজ করে, এবং প্রোডাক্টে এমন কিছু ভ্যালু অ্যাড করে —
যেটা অন্যরা দেয় না।
উদাহরণ দিয়ে বলি:
একজন লোক তরমুজ বিক্রি করছে — প্রতিটা তরমুজ $4 করে।
আরেকজন সেই তরমুজ কেটে সুন্দরভাবে প্যাকেট করে বিক্রি করছে প্রতি পিস $1 করে, বা ঠাণ্ডা জুস বানিয়ে বিক্রি করছে প্রতি গ্লাস $1।
দুইজনই একই জিনিস নিয়ে কাজ করছে, কিন্তু উপস্থাপন আর চিন্তাভাবনায় পার্থক্য তাদের আয় ও সাফল্যে বড় ফারাক গড়ে দিচ্ছে।
তাহলে একটা তরমুজে অনেক গ্লাস জুস বিক্রি করতে পারবে। এতে বেশি লাভ।
- প্রথমজন ব্যবসায়ী।
- দ্বিতীয়জন উদ্যোক্তা।
তাহলে একজন উদ্যোক্তা কিভাবে বেশি আয় করে?
১. একই জিনিস দিয়ে বেশি কিছু তৈরি করে: উদ্যোক্তা একটা পণ্যের একাধিক রূপ বানায় — যেমন তরমুজ দিয়ে জুস, ফ্রুট কিউব, স্যালাড। এতে সে এক পণ্যে অনেক বিক্রি করতে পারে।
২. ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী প্রেজেন্টেশন করে: একজন উদ্যোক্তা জানে, মানুষ এখন চায় দ্রুত, পরিষ্কার এবং আকর্ষণীয়ভাবে প্যাক করা পণ্য। সে সেই চাহিদা পূরণ করে বাড়তি দাম নিতে পারে।
৩. সার্ভিসের মান উন্নত করে: শুধু প্রোডাক্ট নয়, সে ডেলিভারি, প্যাকেজিং, কাস্টমার কেয়ার — সবকিছুতেই প্রফেশনালিজম দেখায়। এতে ক্রেতার সন্তুষ্টি বাড়ে এবং রেগুলার কাস্টমার তৈরি হয়।
৪. ব্র্যান্ড ভ্যালু তৈরি করে: উদ্যোক্তার নাম, লোগো, প্যাকেজিং এমনভাবে তৈরি হয় যে সেটা আলাদা করে চিনে রাখা যায়। ব্র্যান্ড ভ্যালু থাকলে মানুষ সহজেই বেশি দাম দিতে রাজি হয়।
৫. সমাধান বিক্রি করে, শুধু পণ্য না: উদ্যোক্তা বোঝে মানুষ আসলে সমস্যা থেকে মুক্তি চায়। সে সেই সমস্যার সমাধান হিসেবে পণ্য/সার্ভিস দেয়, ফলে ক্রেতা বেশি দাম দিতে দ্বিধা করে না।
তাহলে আপনি কীভাবে উদ্যোক্তা হবেন?
১. পণ্যে ভ্যালু অ্যাড করুন: শুধু পণ্য নয়, সেই পণ্যের সাথেই যেন আপনি সমাধান দিচ্ছেন — সেটার খেয়াল রাখুন।
২. ক্রেতার সমস্যার দিকে নজর দিন: ক্রেতা কী চায়, কীভাবে সহজে পেতে চায় — সেটা বুঝে কাজ করুন।
৩. নতুনভাবে চিন্তা করুন: একই জিনিস যদি একটু ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা যায়, তাহলে সেটাই আপনাকে সবার থেকে আলাদা করে দেবে।
৪. ব্র্যান্ড গড়ুন: ব্যবসা তো সবাই করে, কিন্তু ব্র্যান্ড তৈরি করে কজন? আপনার নাম, প্যাকেজিং, সার্ভিস — সবকিছুতেই পেশাদারিত্ব আনুন।
আজকের বাজারে শুধু ব্যবসায়ী হওয়া যথেষ্ট না।
আপনাকে উদ্যোক্তা হতে হবে।
তবেই আপনি বড় হবেন, নিজের ব্র্যান্ড গড়তে পারবেন, আর মানুষের মনে জায়গা করে নিতে পারবেন।
চলুন, আজ থেকেই শুরু করি — ব্যবসায়ী থেকে উদ্যোক্তা হবার যাত্রা! 🚀